‘ধর্ষণে’র জেরে গর্ভবতী মূক ও বধির যুবতী, ১৭ জনের মধ্যে DNA পরীক্ষায় জানা গেল, ধর্ষক বাবা!

মুম্বই: লালসায় আর কত নীচে নামবে মানুষ? এই প্রশ্নই উঠল আরও এক ভয়ঙ্কর ঘটনায়। মূক ও বধির যুবতীকে ধর্ষণের অভিযোগ। তার জেরে গর্ভবতী হয়ে পড়েন নির্যাতিতা। অভিযুক্ত কে- জানতে সন্দেহভাজন ১৭ জনের ডিএনএ পরীক্ষা করা হয়েছিল। আর সেই রিপোর্টে যা এল, তাতে বিকৃত যৌনতার প্রকাশ হল। জানা গেল, বাইরের কেউ নয়, ওই বিশেষভাবে সক্ষম যুবতীকে ধর্ষণ করে গর্ভবতী করেছে তাঁরই বাবা। রিপোর্ট হাতে আসতেই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

ঘটনাটি ঘটেছে মহারাষ্ট্রের মুম্বইয়ে। পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনার সূত্রপাত হয় গত বছর সেপ্টেম্বর মাসে। যুবতী তাঁর ঠাকুমাকে জানিয়েছিল যে তাঁর পেটে অস্বস্তি হচ্ছে, মনে হচ্ছে কোনও পোকা ঘুরে বেড়াচ্ছে।  হাসপাতালে ভর্তি করে ওই যুবতীর পরীক্ষা করে জানা যায়, তাঁর গর্ভে রয়েছে পাঁচ মাসের সন্তান। কিন্তু যুবতী তো অবিবাহিত, কারোর সঙ্গে সম্পর্কেও নেই! গোটা বিষয়টি জানতে পেরেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তরফে পুলিশে খবর দেওয়া হয়।

পুলিশের যুবতীকে প্রথমে জিজ্ঞাসাবাদ করতে সমস্যা হচ্ছিল, কারণ সে মূক ও বধির। যুবতীর বাবাকে প্রশ্ন করা হলে, তিনি শারীরিক সম্পর্কের কথাই উড়িয়ে দেন এবং জানান যে কীভাবে তাঁর মেয়ে  গর্ভবতী হয়ে পড়েছে, জানেন না। তিনি পুলিশে অভিযোগ দায়ের করতেও অস্বীকার করেন।

তবে পুলিশও হাল ছাড়েনি। হাসপাতালেই যুবতীকে কাউন্সেলিং করানো হয়। এরপর যুবতী অভিযোগ দায়ের করতে রাজি হয়। যুবতীর অভিযোগের ভিত্তিতে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার ও ১৭ বছরের এক নাবালককে আটক করা হয়। তবে অপরাধী কে, সে সম্পর্কে আরও নিশ্চিত হতে পুলিশ নির্যাতিতার বাবা সহ ১৭ জনের, যারা সন্দেহের তালিকায় ছিল, তাদের ডিএনএ পরীক্ষা করায়।

গত ২৭ জানুয়ারি ডিএনএ পরীক্ষার রিপোর্ট আসে। দেখা যায়, ১৭ জনের নমুনার মধ্যে একজনের সঙ্গেই ওই শিশুর ডিএনএ ম্যাচ হচ্ছে। তা হল নির্যাতিতার বাবার সঙ্গে। অর্থাৎ মূক ও বধির যুবতীকে তাঁর বাবাই ধর্ষণ করেছিল, যার জেরে গর্ভবতী হয়ে পড়েন ওই যুবতী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

🟢 Join WhatsApp