কোলকাতা – যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের দেওয়ালে নাকি এবার আরেকটি তাজা পোস্টার। বার্তা সংক্ষিপ্ত, দাবি সরাসরি—
“Say bye to gender binary, we want gender neutral hostel.”
ছাত্ররাজনীতির অভিধানে নতুন শব্দ ঢুকল: জেন্ডার নিউট্রাল হোস্টেল।
নেটিজেনরা দ্বিধাবিভক্ত এই ধরণের দাবী সামনে আনার জন্যে |কেউ বলছেন যাদবপুরে পড়াশোনাটা এখন আর মুখ্য নয় তো কেউ বলছেন এগুলো সময়ের দাবী!
কেউ ভাবছেন, এ নিশ্চয়ই অন্তর্ভুক্তির দাবি। কেউ ভাবছেন, এ তো প্রশাসনের মাথাব্যথা বাড়ানোর শর্টকাট। আর বাকিরা ভাবছেন—পরীক্ষার সিলেবাস শেষ হলো তো?
স্লোগান থেকে সিঁড়িঘর
স্লোগান সাধারণত মিছিলের জন্য। কিন্তু এখানে স্লোগান পৌঁছে গেছে সিঁড়িঘরে, বাথরুমের সামনে, ওয়ার্ডেনের রেজিস্টারে। কারণ ‘জেন্ডার নিউট্রাল’ কথাটা যতটা দর্শন, ততটাই লজিস্টিক্স।
রুম বরাদ্দ কে করবে? নিরাপত্তার নিয়ম কী হবে? অভিযোগ এলে শুনবে কে?
স্লোগান এসব প্রশ্নের উত্তর দেয় না—ওগুলো রেখে দেয় প্রশাসনের ঘাড়ে, আর বিতর্কের টেবিলে।
‘বাইনারি’ বিদায়, বাস্তবের এন্ট্রি
তত্ত্বে ‘বাইনারি’ ভাঙা সহজ। বাস্তবে দেয়াল, দরজা, নিয়ম—সবই এখনও খুব বাইনারি। পোস্টার যেন বলছে, ধারণা বদলাও।
ক্যাম্পাসের অনেকেই বলছেন, ধারণা বদলাতে গেলে কাঠামোও বদলাতে হয়।
আর কাঠামো বদলানো মানে—মিটিং, নোটিশ, কমিটি, উপকমিটি, এবং অনন্ত সময়।
ছাত্ররাজনীতির নতুন রুটিন
একসময় পোস্টারে লেখা থাকত ফি কমাও, সিট বাড়াও, লাইব্রেরি খোলো। এখন লেখা হচ্ছে—হোস্টেলের ধারণা বদলাও।
অর্থাৎ, ছাত্ররাজনীতি এবার রুম নম্বর পর্যন্ত পৌঁছে গেছে।
কেউ বলছেন, এটাই সময়ের দাবি। কেউ বলছেন, সময়টা কি সত্যিই এই দাবির জন্য?
প্রশ্নগুলো থাক
এই দাবির পক্ষে যুক্তি আছে, বিপক্ষেও আছে। নিরাপত্তা, গোপনীয়তা, স্বাচ্ছন্দ্য—সবকিছু নিয়েই স্বাভাবিক উদ্বেগ থাকবে। একই সঙ্গে থাকবে অন্তর্ভুক্তির প্রশ্ন, পরিচয়ের প্রশ্ন, মর্যাদার প্রশ্ন।
সমস্যা হলো, পোস্টার প্রশ্ন তো তোলে, উত্তর দেয় না। আর উত্তর খোঁজার কাজটাই সবচেয়ে কঠিন।
জেন্ডার বাইনারি কি শুধুই জেন্ডার সমতার কথা মাথায় রেখে, নাকি এর মধ্যে রয়েছে অন্য কোনো দুরারোগ্য অভিসন্ধি? ছাত্ররাজনীতির চিন্তাধারায় আধুনিকতার মান হয়তো বেড়েছে, কিন্তু হোস্টেলের ঘরে জেন্ডার নিউট্রাল করার দাবি কি আদৌ ভারতীয় রাজনীতির সাংবিধানিক অকার্যকারিতার কোনো পরিবর্তন আনতে পারবে?
শেষ কথা
যাদবপুরের দেওয়াল আবারও প্রমাণ করল—ক্যাম্পাসে বিতর্কের অক্সিজেন ফুরোয় না।
আজকের পোস্টার বলছে, “Gender neutral hostel চাই।”
আগামীকাল হয়তো আরেক পোস্টার বলবে, “কীভাবে?”
সম্ভবত আসল আলোচনা শুরু হবে সেখান থেকেই।
সৌম্য কুন্ডু | Jan-Vani Digital Desk
