অনুকূল আবহাওয়া ও চাষের পরিমাণ বাড়ায় উৎপাদনে বড় বৃদ্ধি, সংরক্ষণ ও বাজার নিয়ন্ত্রণ এখন বড় চ্যালেঞ্জ
পশ্চিমবঙ্গ আবারও কৃষিক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলকের দিকে এগোচ্ছে। চলতি ২০২৫-২৬ মরশুমে রাজ্যে আলু উৎপাদন ১৪০ থেকে ১৫০ লক্ষ টনের মধ্যে পৌঁছতে পারে বলে কৃষি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
গত বছর যেখানে মোট উৎপাদন ছিল প্রায় ১১৫ লক্ষ টন, সেখানে এবার উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অনুকূল আবহাওয়া, উন্নত চাষ পদ্ধতি এবং চাষের জমির পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে এই সাফল্য সম্ভব হয়েছে।
রাজ্যের হুগলি, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান এবং পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা আলু উৎপাদনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এই জেলাগুলির কৃষকরা জানিয়েছেন, এবারের ফলন আগের তুলনায় অনেক বেশি এবং আলুর গুণগত মানও উন্নত হয়েছে।
তবে এই রেকর্ড উৎপাদনের সঙ্গে কিছু উদ্বেগও তৈরি হয়েছে। বর্তমানে রাজ্যে প্রায় ৫৮০টি হিমঘর রয়েছে, যার মোট সংরক্ষণ ক্ষমতা ৭০-৮০ লক্ষ টনের মধ্যে। ফলে অতিরিক্ত উৎপাদিত আলু সংরক্ষণ করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজ্যের অভ্যন্তরে বছরে প্রায় ৭২ লক্ষ টন আলু ব্যবহার হয়। ফলে অতিরিক্ত উৎপাদিত আলু ভিনরাজ্যে রফতানি করা অত্যন্ত জরুরি, না হলে বাজারে অতিরিক্ত সরবরাহের কারণে দাম কমে যেতে পারে।
রাজ্য সরকার ইতিমধ্যেই হিমঘর খোলা ও চাষিদের জন্য সংরক্ষণ সুবিধা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছে, যাতে কৃষকরা ন্যায্য দাম পান।
এই রেকর্ড উৎপাদন শুধু কৃষকদের আয় বাড়াতে সাহায্য করবে না, বরং রাজ্যের কৃষি অর্থনীতিকেও আরও শক্তিশালী করবে।
