৬০০ দিনের বেশি হাসপাতালে ভর্তি থাকার পর কার্ডিয়াক ফেলিওরে মৃত্যু; প্রাক্তন সহযোদ্ধার স্মৃতিচারণের পাশাপাশি ক্ষোভও উগরে দিলেন কুণাল ঘোষ

কলকাতা: রবিবার গভীর রাতে প্রয়াত হলেন বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ মুকুল রায়। কলকাতার বাইপাস সংলগ্ন একটি বেসরকারি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭২ বছর। দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত উপসর্গ-সহ একাধিক জটিল অসুস্থতায় ভুগছিলেন তিনি। জানা গেছে, ৬০০ দিনেরও বেশি সময় ধরে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। শেষপর্যন্ত কার্ডিয়াক ফেলিওর ও হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়।

মুকুল রায়ের মৃত্যুতে রাজনৈতিক মহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গভীর শোকপ্রকাশ করেছেন। এক্স-হ্যান্ডেলে পোস্ট করে তাঁর সাংগঠনিক দক্ষতার প্রশংসা করেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও। তৃণমূল দলের তরফে জানানো হয়েছে শ্রদ্ধা ও সমবেদনা।

তবে কুণাল ঘোষের পোস্টে শোকের পাশাপাশি উঠে এসেছে ব্যক্তিগত অভিমান ও রাজনৈতিক অভিযোগের প্রসঙ্গ। এক্স-হ্যান্ডেলে দীর্ঘ পোস্টে তিনি মুকুল রায়কে একসময়ের দক্ষ সংগঠক হিসেবে স্মরণ করেছেন। একইসঙ্গে অতীতের কিছু ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে ব্যক্তিগত অভিমান ও মতবিরোধের কথাও উল্লেখ করেছেন।

কুণাল ঘোষ লিখেছেন, রাজনৈতিক জীবনের নানা পর্বে তাঁদের সম্পর্কের ওঠানামা হয়েছে। একসময় দলের কঠিন সময়ে মুকুল রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন বলেও স্বীকার করেছেন তিনি। তবে পরবর্তী সময়ে মতবিরোধ তৈরি হয় বলেও উল্লেখ করেছেন।

পোস্টে তিনি আরও জানিয়েছেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও অসুস্থতার সময়ে মুকুল রায়ের সুস্থতা কামনা করেছিলেন। পরিবারের প্রতি সমবেদনাও জানিয়েছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ব্যক্তি সম্পর্কের স্মৃতি এবং রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা— দুটিই আজ স্মরণীয় হয়ে থাকল।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মুকুল রায় বাংলা রাজনীতির এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের নাম। বিভিন্ন সময়ে দলবদল, কৌশলগত রাজনৈতিক ভূমিকা এবং সাংগঠনিক দক্ষতার কারণে তিনি আলোচনায় ছিলেন। তাঁর মৃত্যুতে একটি অধ্যায়ের অবসান হল বলেই মত অনেকের।

তবে কুণাল ঘোষের পোস্টে যে অভিমান ও অভিযোগের প্রসঙ্গ উঠে এসেছে, তা রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। যদিও এই মন্তব্যগুলিকে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার আলোকে দেখা উচিত বলেই মত বিশ্লেষকদের একাংশের।

মুকুল রায়ের রাজনৈতিক যাত্রাপথ ছিল বহু বাঁকবদলে ভরা। তাঁর প্রস্থান রাজ্য রাজনীতিতে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সমাপ্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

🟢 Join WhatsApp