১ ও ২ মার্চ রাজ্যের একাধিক জেলায় উদ্বোধন, অমিত শাহ থেকে রাজনাথ সিং— একসঙ্গে উপস্থিত শীর্ষ নেতৃত্ব

পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক আবহ আবারও উত্তপ্ত হতে চলেছে। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে বিজেপি রাজ্যে শুরু করতে চলেছে ‘পরিবর্তন যাত্রা’। এই কর্মসূচির উদ্বোধন ঘিরে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে একাধিক কেন্দ্রীয় ও সর্বভারতীয় নেতার বাংলায় আগমন রাজনৈতিক মহলে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

রাজ্য বিজেপির সাংগঠনিক বিভাগের সংখ্যা মোট ১০। তার মধ্যে ন’টি বিভাগে এই পরিবর্তন যাত্রা অনুষ্ঠিত হবে। কলকাতা মহানগর বিভাগে যাত্রা না হলেও, সমাপ্তি পর্বে ব্রিগেড সমাবেশ আয়োজনের দায়িত্ব থাকবে সেই বিভাগের উপর।

১ মার্চ পাঁচটি জায়গা— কোচবিহার, কৃষ্ণনগর, কুলটি, গড়বেতা এবং রায়দিঘি থেকে যাত্রার সূচনা হবে। ২ মার্চ ইসলামপুর, হাসন, সন্দেশখালি ও আমতা থেকে আরও চারটি যাত্রার উদ্বোধন হবে।

কারা আসছেন বাংলায়?

এই দুই দিনে রাজ্যে উপস্থিত থাকবেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং, কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জগৎপ্রকাশ নড্ডা এবং বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন। এছাড়াও কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান, কেন্দ্রীয় নারী ও শিশুকল্যাণ মন্ত্রী অন্নপূর্ণা দেবী, কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান এবং মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফডণবীসও বিভিন্ন জায়গায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন।

রাজনৈতিক মহলের মতে, এত স্বল্প সময়ের মধ্যে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের একত্রে বাংলায় উপস্থিতি বিরল ঘটনা।

‘যোগদান মেলা’ থেকে ‘নেতার মেলা’

২০২১ সালের নির্বাচনের আগে বিজেপি ‘যোগদান মেলা’ কর্মসূচির মাধ্যমে অন্য দল থেকে নেতাকর্মীদের দলে টেনেছিল। তবে এবার সেই কর্মসূচি নেই। তার বদলে ‘পরিবর্তন যাত্রা’-র উদ্বোধন ঘিরে তৈরি হচ্ছে এক নতুন ধরনের শক্তিপ্রদর্শনের ছবি।

রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী ইতিমধ্যেই বিভিন্ন জেলায় ‘চার্জশিট পেশ’ কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দিয়েছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিবর্তন যাত্রা কেবল সংগঠনিক কর্মসূচি নয়, বরং নির্বাচনের আগে শক্তি প্রদর্শনের একটি বড় কৌশল।

রাজনৈতিক তাৎপর্য

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপি রাজ্যে নিজেদের সংগঠন মজবুত করতে চাইছে। শীর্ষ নেতৃত্বের ধারাবাহিক সফর তারই ইঙ্গিত বহন করছে। অন্যদিকে শাসক দলও এই কর্মসূচির উপর কড়া নজর রাখছে।

আগামী কয়েক দিন রাজ্যের রাজনৈতিক পরিবেশ আরও সরগরম হতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।

Soumya Kundu | Jan-Vani Digital Desk

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

🟢 Join WhatsApp