বিদেশ সফর, আন্তর্জাতিক চুক্তি থেকে বঙ্গভবনের প্রেস বিভাগ— একাধিক ইস্যুতে ক্ষোভ প্রকাশ
ঢাকা: বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছে রাষ্ট্রপতি মহম্মদ শাহাবুদ্দিনের সাম্প্রতিক মন্তব্য ঘিরে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় তাঁকে কার্যত কোণঠাসা করে রাখা হয়েছিল বলে অভিযোগ তুলেছেন তিনি। তাঁর দাবি, প্রাক্তন প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূস একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে রাষ্ট্রপতির দপ্তরকে অন্ধকারে রেখেছিলেন।
রাষ্ট্রপতির বক্তব্য অনুযায়ী, বিদেশ সফর থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক চুক্তি— এমন বহু গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় বিষয়ে তাঁকে অবহিত করা হয়নি। প্রায় ১৫ বার বিদেশ সফরের বিষয়েও কোনও আনুষ্ঠানিক আলোচনা হয়নি বলে তাঁর অভিযোগ। এমনকি আমেরিকার সঙ্গে চুক্তির মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতেও রাষ্ট্রপতির দপ্তরকে সম্পূর্ণ এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
বিদেশে ‘অদৃশ্য’ করার অভিযোগ
শাহাবুদ্দিনের আক্ষেপ, বিদেশে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি রক্ষার ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতির ভূমিকা থাকা সত্ত্বেও তাঁকে ইচ্ছাকৃত ভাবে আড়ালে রাখা হয়েছিল। দীর্ঘদিনের রীতি ভেঙে বিদেশের দূতাবাস থেকে তাঁর সরকারি ছবি সরিয়ে দেওয়ার অভিযোগও সামনে এসেছে। পাশাপাশি, কাতার ও কসোভোর মতো দেশ থেকে প্রাপ্ত আমন্ত্রণ বাতিল করা হয়েছিল তাঁর সঙ্গে পরামর্শ না করেই।
রাষ্ট্রপতির মতে, এসব ক্ষেত্রে ‘ব্যস্ততা’কে অজুহাত হিসেবে দেখানো হয়েছিল।
বঙ্গভবনের প্রেস বিভাগে পরিবর্তন
সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে একটি সৌজন্য সাক্ষাতের খবর প্রকাশিত হওয়ার পর বঙ্গভবনের প্রেস বিভাগে প্রশাসনিক পরিবর্তন আনা হয় বলে অভিযোগ। দীর্ঘদিনের কর্মরত কয়েকজন কর্মীকে সরিয়ে দেওয়া হয়। রাষ্ট্রপতির বক্তব্য, এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল যে বঙ্গভবন থেকে সাধারণ প্রেস বিবৃতি জারি করাও কঠিন হয়ে পড়ে।
অসাংবিধানিক অপসারণের অভিযোগ
সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ অভিযোগটি হল— তাঁকে পদ থেকে সরানোর একটি পরিকল্পনা করা হয়েছিল। রাষ্ট্রপতির দাবি, প্রাক্তন এক প্রধান বিচারপতিকে সেই পদে বসানোর ভাবনাও ছিল, যদিও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি তা নাকচ করেন।
গত বছরের অক্টোবরে বঙ্গভবন ঘেরাওয়ের ঘটনাও উল্লেখ করেছেন তিনি। সেই সময় রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেও তিনি নিজের অবস্থানে অটল ছিলেন বলে জানিয়েছেন।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া
রাষ্ট্রপতির এই মন্তব্য ঘিরে বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহলে তীব্র আলোচনা শুরু হয়েছে। যদিও অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি, বিশ্লেষকদের মতে এই ইস্যু আগামী দিনে রাজনৈতিক আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ জায়গা দখল করতে পারে।
Soumya Kundu | Jan-Vani Digital Desk
