৯ মার্চ পর্যন্ত আদালতে অনুপস্থিত একাধিক বিচারক। শুনানি অনিশ্চিত, চরম ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ ও আইনজীবী মহল।
এসআইআর (SIR)-এর নথি যাচাইয়ের কাজে বিচারকরা ব্যস্ত থাকায় তৈরি হয়েছে SIR Judicial Hearing Delay পরিস্থিতি। এর ফলে বারাসাত আদালতে একাধিক মামলার শুনানি অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। জানা গিয়েছে, আগামী ৯ মার্চ পর্যন্ত বেশ কয়েকজন বিচারক আদালতে উপস্থিত থাকবেন না। ফলে বিচার প্রক্রিয়া কার্যত ধীরগতির মুখে।
মামলা নিষ্পত্তির নির্ধারিত সময় ঘনিয়ে এলেও শুনানি পিছিয়ে যাচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষ থেকে আইনজীবী—সব মহলেই উদ্বেগ বাড়ছে।
বারাসাত আদালতের বর্তমান পরিস্থিতি
বারাসাত জেলা আদালতে মোট ১৫ জন বিচারকের আদালত বসে। কিন্তু বর্তমানে ডিস্ট্রিক্ট জজ সহ আটজন অতিরিক্ত ডিস্ট্রিক্ট জজ এসআইআর-এর কাজে যুক্ত রয়েছেন। ফলে মাত্র ছয়জন বিচারককে সামলাতে হচ্ছে ১৫টি আদালত কক্ষের মামলা।
আইনজীবীদের মতে, এই পরিস্থিতিতেই প্রকট হয়েছে SIR Judicial Hearing Delay সমস্যা। যেসব মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ বা চূড়ান্ত শুনানির পর্যায়ে ছিল, সেগুলিও স্থগিত রাখতে হচ্ছে।
পাবলিক প্রসিকিউটরের বক্তব্য
পাবলিক প্রসিকিউটর বিশ্বজিৎ রায় চৌধুরী জানিয়েছেন, আপাতত ৯ মার্চ পর্যন্ত সমস্যা চলবে, তবে সময়সীমা বাড়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। তাঁর কথায়, কিছু মামলায় হাইকোর্টের নির্দিষ্ট নির্দেশ রয়েছে। তবুও বিচারক অনুপস্থিত থাকায় সেই মামলাগুলিও বিলম্বিত হচ্ছে।
অন্যদিকে, অ্যাডিশনাল ডিস্ট্রিক্ট পিপি শ্যামল কান্তি দত্ত জানিয়েছেন, নিম্ন আদালতের একাধিক এডিজে বর্তমানে এসআইআর-এর কাজে যুক্ত। ট্র্যাক কোর্টগুলো নিজেদের মামলার পাশাপাশি অতিরিক্ত মামলাও দেখছে। ফলে মূলত জামিন সংক্রান্ত শুনানি ছাড়া অন্য কোনও গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হচ্ছে না।
মামলাকারীদের ভোগান্তি
আইনজীবীদের দাবি, সাক্ষীরা নির্দিষ্ট দিনে আদালতে উপস্থিত থাকলেও বিচারক না থাকায় তাঁদের ফিরে যেতে হচ্ছে। এতে সময় ও অর্থ—দুইয়েরই অপচয় হচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে SIR Judicial Hearing Delay সাধারণ মানুষের উপর সরাসরি প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে ফৌজদারি ও দেওয়ানি মামলার ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রিতা মানসিক চাপ বাড়াচ্ছে।
বিচার ব্যবস্থায় বিচারকের ঘাটতি
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিচারকের শূন্যপদ দীর্ঘদিন ধরেই একটি বড় সমস্যা। তার উপর অতিরিক্ত প্রশাসনিক দায়িত্ব পড়লে আদালতের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়।
সরকারি পরিসংখ্যান জানতে ভিজিট করতে পারেন ন্যাশনাল জুডিশিয়াল ডাটা গ্রিড (NJDG)-এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইট:
👉 https://njdg.ecourts.gov.in
বিচারকের সংখ্যা ও পেন্ডিং মামলার তথ্য থেকে স্পষ্ট যে, অতিরিক্ত দায়িত্বে বিচারপতিরা ব্যস্ত থাকলে SIR Judicial Hearing Delay আরও প্রকট হতে পারে।
আইনজীবী মহলের উদ্বেগ
ডিস্ট্রিক্ট পিপি থেকে শুরু করে সাধারণ আইনজীবী—সবাই বলছেন, এই পরিস্থিতি আগে থেকেই অনুমান করা যাচ্ছিল। প্রয়োজনীয় সংখ্যক বিচারক না থাকায় এমনিতেই চাপ ছিল। তার উপর একযোগে একাধিক বিচারক প্রশাসনিক কাজে যুক্ত হওয়ায় সমস্যা আরও বেড়েছে।
অনেকের মতে, বিচার ব্যবস্থাকে সচল রাখতে বিকল্প ব্যবস্থা প্রয়োজন। নয়তো ভবিষ্যতে আরও দীর্ঘমেয়াদি SIR Judicial Hearing Delay দেখা দিতে পারে।
আরও পড়ুন (Internal Links)
👉 আরও পড়ুন:
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের স্মৃতি বহন করা বিশেষ ট্রাম চলবে কলকাতায়।
কবে স্বাভাবিক হবে পরিস্থিতি?
বর্তমানে ৯ মার্চ পর্যন্ত বিচারকরা এসআইআর-এর কাজে ব্যস্ত থাকবেন বলে জানা গিয়েছে। তবে কাজের মেয়াদ বাড়লে আদালতের স্বাভাবিক কার্যক্রম পুনরুদ্ধারে আরও দেরি হতে পারে।
আইনজীবী মহলের আশা, দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া হবে যাতে সাধারণ মানুষের বিচার পাওয়ার অধিকার ব্যাহত না হয়।
উপসংহার
সব মিলিয়ে, এসআইআর-এর নথি যাচাইয়ের দায়িত্ব বিচারকদের উপর বর্তানোর ফলে তৈরি হয়েছে SIR Judicial Hearing Delay পরিস্থিতি। মামলার জট, বিচারকের ঘাটতি এবং প্রশাসনিক দায়িত্ব—এই তিনের মিলিত প্রভাবে আদালতের কার্যক্রম ধীরগতির মুখে।
এখন দেখার বিষয়, প্রশাসন কত দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে পারে।
Soumya Kundu | Jan-Vani Digital Desk
