নির্বাচনী তালিকার বিশেষ সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে তীব্র উদ্বেগ মুখ্যমন্ত্রীর। ‘গোপনে নাম কাটা হচ্ছে’ অভিযোগ।
বিশেষ সংশোধন প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছে। West Bengal SIR voter list controversy-কে ঘিরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে প্রায় ১.২ কোটি নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়তে পারে।
দক্ষিণ কলকাতার ভবানীপুরে এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়ার ফলে বিপুল সংখ্যক মানুষের নাম মুছে ফেলা হচ্ছে।
কী অভিযোগ তুললেন মুখ্যমন্ত্রী?
মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, প্রথম পর্যায়ে প্রায় ৫৮ লক্ষ নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। এরপরও নাকি গোপনে আরও নাম বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
তিনি বলেন, “ফেব্রুয়ারি ১৪-র সময়সীমা পার হওয়ার পরও নাম কাটা হচ্ছে। নতুন করে ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সি’ নামে একটি নিয়ম ব্যবহার করা হচ্ছে, যা আগে ছিল না।”
এই মন্তব্যের পর West Bengal SIR voter list controversy আরও তীব্র হয়েছে।
১.২ কোটির আশঙ্কা কেন?
মুখ্যমন্ত্রী জানান, যদি ধরে নেওয়া হয় যে কিছু ভোটার স্বাভাবিক কারণেই তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন, তাহলেও সংখ্যাটি কয়েক লক্ষের বেশি হওয়া উচিত নয়।
তবে তাঁর মতে, মোট বাদ পড়া নামের সংখ্যা ১.২ কোটির কাছাকাছি পৌঁছতে পারে।
তিনি আরও বলেন, “মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া উচিত নয়। আমি কোনওভাবেই প্রকৃত ভোটারদের নাম বাদ যেতে দেব না।”
সুপ্রিম কোর্টে আবেদন
মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে তিনি সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন।
তিনি দাবি করেন, আদালতের নির্দেশের পরও এখনও পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়নি।
“আমি নিজে আদালতে গিয়েছি। মামলা এখনও বিচারাধীন। ২৮ ফেব্রুয়ারি যে তালিকা প্রকাশ হবে, তাতে কী থাকবে জানি না,” বলেন তিনি।
নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা
নির্বাচন কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, ভোটার তালিকার সংশোধন একটি নিয়মিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়া। মৃত ভোটার, স্থানান্তরিত ব্যক্তি বা তথ্যগত ত্রুটির ভিত্তিতে নাম সংশোধন বা অপসারণ করা হয়।
ভারতের নির্বাচন কমিশনের নিয়মাবলি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে সরকারি ওয়েবসাইটে:
👉 https://eci.gov.in
তবে বিরোধী পক্ষের দাবি, এই প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ হওয়া প্রয়োজন।
রাজনৈতিক প্রভাব
West Bengal SIR voter list controversy-র রাজনৈতিক প্রভাব সুদূরপ্রসারী হতে পারে। রাজ্যে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকা সংক্রান্ত বিতর্ক রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়িয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, ধর্ম বা রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে সব নাগরিকের অধিকার রক্ষা করা তাঁর দায়িত্ব।
তিনি বলেন, “আমি মানবতার পক্ষে। হিন্দু, মুসলিম, শিখ, জৈন বা খ্রিস্টান—যে-ই হোক, প্রকৃত ভোটারের নাম বাদ দেওয়া চলবে না।”
সামাজিক প্রকল্প ঘোষণা
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী আরও কয়েকটি উন্নয়নমূলক প্রকল্পের ঘোষণা করেন।
এর মধ্যে রয়েছে সংখ্যালঘু কেন্দ্র নির্মাণ, স্বাস্থ্য পরিকাঠামো উন্নয়ন, নতুন ফায়ার স্টেশন এবং পরিবহণ ব্যবস্থার সম্প্রসারণ।
এই ঘোষণা রাজনৈতিক বার্তাও বহন করছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
সামনে কী?
২৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের কথা রয়েছে। ফলে সেই দিনটির দিকে নজর রয়েছে রাজনৈতিক মহলের।
West Bengal SIR voter list controversy আগামী দিনে আরও বড় রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে উঠতে পারে বলে মত বিশ্লেষকদের।
আরও পড়ুন (Internal Links)
👉 আরও পড়ুন:
Kerala renamed Keralam Centre approval: কেরালার নাম বদলে ‘কেরালম’, ক্ষোভে মুখ্যমন্ত্রী মমতা
👉 ৩২ হাজার প্রাথমিক শিক্ষকের চাকরি নিয়ে চূড়ান্ত লড়াই, 32000 Teachers TET Case Supreme Court-এ বড় মোড়
উপসংহার
সব মিলিয়ে, ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে উদ্বেগ ও বিতর্ক ক্রমশ বাড়ছে। মুখ্যমন্ত্রীর আশঙ্কা অনুযায়ী যদি বিপুল সংখ্যক নাম বাদ পড়ে, তবে তা নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও তথ্য সামনে আসার পরই প্রকৃত পরিস্থিতি স্পষ্ট হবে।
Soumya Kundu | Jan-Vani Digital Desk
