বিধানসভা নির্বাচনের আগে বড় রাজনৈতিক পদক্ষেপ, হঠাৎ পদত্যাগে জল্পনা
পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে বড় চমক। CV Ananda Bose resigns — এই খবর সামনে আসতেই রাজনৈতিক মহলে জল্পনা শুরু হয়েছে। সাড়ে তিন বছর দায়িত্ব পালনের পর হঠাৎই পদত্যাগ করলেন পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস।
বৃহস্পতিবার তাঁর পদত্যাগের খবর সামনে আসে। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই পদক্ষেপ বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
মমতার প্রতিক্রিয়া
রাজ্যপালের পদত্যাগের খবর প্রকাশ্যে আসার পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। তিনি সামাজিক মাধ্যম এক্স (X)-এ একটি পোস্ট করে জানান যে এই খবর তাঁকে “স্তম্ভিত এবং উদ্বিগ্ন” করেছে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, হঠাৎ এই পদত্যাগের কারণ সম্পর্কে তিনি তখনও অবগত নন। রাজ্যের সাংবিধানিক প্রধানের এমন আকস্মিক সিদ্ধান্তে রাজনৈতিক মহলেও নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
কখন দায়িত্ব নেন সিভি আনন্দ বোস?
সিভি আনন্দ বোস ২০২২ সালের ২৩ নভেম্বর পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। কলকাতা হাইকোর্টের তৎকালীন প্রধান বিচারপতি প্রকাশ শ্রীবাস্তব তাঁকে শপথবাক্য পাঠ করান।
তার আগে ২০২২ সালের ১৭ নভেম্বর তাঁকে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল হিসেবে নিয়োগ করা হয়। তিনি লা গণেশনকে এই পদে প্রতিস্থাপন করেছিলেন।
CV Ananda Bose resigns খবরটি সামনে আসার পর থেকেই তাঁর রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক জীবনের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
প্রশাসনিক জীবনে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা
সিভি আনন্দ বোস ছিলেন ১৯৭৭ ব্যাচের একজন আইএএস অফিসার। তিনি কেরালা ক্যাডারের কর্মকর্তা হিসেবে প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করেন।
২০১১ সালে অবসর নেওয়ার আগে তিনি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে কাজ করেছেন। অবসর নেওয়ার পরও তিনি প্রশাসনিক এবং একাডেমিক ক্ষেত্রে সক্রিয় ছিলেন।
তিনি কলকাতার ন্যাশনাল মিউজিয়ামের প্রশাসক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে প্রতিনিধিত্ব
সিভি আনন্দ বোস আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও ভারতের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।
তিনি ইউরোপের পারমাণবিক গবেষণা সংস্থা CERN (European Council for Nuclear Research)-এ ভারতের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেছেন। এছাড়া ফ্রান্সের আন্তর্জাতিক ফিউশন এনার্জি সংস্থা ITER-এর সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন।
তিনি Atomic Energy Education Society-এর চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
এই অভিজ্ঞতাগুলি তাঁকে প্রশাসনিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক ক্ষেত্রে বিশেষ মর্যাদা এনে দেয়।
সাহিত্য ও গবেষণায় অবদান
সিভি আনন্দ বোস শুধু প্রশাসকই নন, তিনি একজন লেখক এবং গবেষক হিসেবেও পরিচিত।
তিনি মোট ৩৫০টির বেশি প্রকাশনা করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে প্রায় ৭০টি বই। তাঁর লেখা উপন্যাস, কবিতা, প্রবন্ধ ও ছোটগল্প বিভিন্ন ভাষায় প্রকাশিত হয়েছে।
তাঁর এই সাহিত্যিক অবদানের জন্য তিনি জওহরলাল নেহরু ফেলোশিপ লাভ করেন।
পারিবারিক পরিচয়
সিভি আনন্দ বোস ১৯৫১ সালের ২ জানুয়ারি কেরালার কোট্টায়াম জেলার মান্নানামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা পি.কে. বাসুদেবন নাইয়ার ছিলেন একজন স্বাধীনতা সংগ্রামী।
তাঁর মা সি. পদ্মাবতী আম্মা ছিলেন ভারত সরকারের একজন প্রাক্তন কর্মকর্তা।
👉 আরও পড়ুন
ইংল্যান্ড বধ! রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে ৭ রানে জয়, T20 বিশ্বকাপের ফাইনালে ভারত
👉 আরও পড়ুন
SIR-এর কাজে ব্যস্ত বিচারকরা, SIR Judicial Hearing Delay-এ থমকে একাধিক মামলা
পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপালদের ইতিহাস
স্বাধীনতার পর থেকে পশ্চিমবঙ্গে মোট ২৩ জন রাজ্যপাল দায়িত্ব পালন করেছেন।
১৯৪৭ সালে দেশের প্রথম ভারতীয় গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব নেন চক্রবর্তী রাজাগোপালাচারী।
তারপর থেকে বিভিন্ন সময়ে অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তি এই পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন গোপালকৃষ্ণ গান্ধী, এম.কে. নারায়ণন, কেশরীনাথ ত্রিপাঠী এবং জগদীপ ধনখড়।
সিভি আনন্দ বোস ছিলেন এই তালিকার ২৩তম রাজ্যপাল।
ভারতের রাজ্যপাল সংক্রান্ত তথ্য জানতে ভিজিট করুন
https://www.india.gov.in
সামনে কী হতে পারে?
সিভি আনন্দ বোসের পদত্যাগের পর এখন প্রশ্ন উঠেছে, কে হবেন পশ্চিমবঙ্গের পরবর্তী রাজ্যপাল। কেন্দ্রীয় সরকার শীঘ্রই নতুন রাজ্যপালের নাম ঘোষণা করতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে।
বিশেষ করে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই পদত্যাগ রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।
Soumya Kundu | Jan-Vani Digital Desk
