ভোটার তালিকা বিতর্কে তীব্র প্রতিবাদ, মেট্রো চ্যানেলে ধর্না চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর
ভোটার তালিকা সংশোধন বা এসআইআর (SIR) ইস্যুকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে আন্দোলনের পুরনো কৌশলই আবার সামনে আনলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। Mamata Banerjee SIR protest dharna-র মাধ্যমে ধর্মতলার মেট্রো চ্যানেলে ধর্নায় বসে কার্যত রাজনৈতিক বার্তা দিলেন তিনি।
শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া এই কর্মসূচি শনিবারও চলবে বলে ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, এই আন্দোলন ভোটাধিকারের প্রশ্নে সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষার লড়াই।
আন্দোলনের ‘ব্রহ্মাস্ত্র’ হিসেবে ধর্না
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে বহু আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি নিজেও প্রায়ই বলেন, “আন্দোলনেই আমার জন্ম।”
এসআইআর ইস্যুতে তাঁর নতুন আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে ধর্মতলার ধর্না। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি তাঁর অন্যতম শক্তিশালী রাজনৈতিক কৌশল।
Mamata Banerjee SIR protest dharna শুধু একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, বরং একটি প্রতীকী বার্তা বলেও মনে করা হচ্ছে।
সিঙ্গুর আন্দোলনের স্মৃতি
এই ধর্না মঞ্চে ফিরে এসেছে প্রায় দুই দশক আগের সিঙ্গুর আন্দোলনের স্মৃতি। সেই সময়ও ধর্মতলার মেট্রো চ্যানেলেই ২৬ দিন অনশন করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
শুক্রবারের ধর্না মঞ্চে সেই সময়ের আন্দোলনের স্মৃতি তুলে ধরেন বহু বিশিষ্ট ব্যক্তি। কবি জয় গোস্বামী ও সঙ্গীতশিল্পী কবীর সুমনও উপস্থিত ছিলেন মঞ্চে।
তাঁদের বক্তব্যে উঠে আসে সিঙ্গুর আন্দোলনের নানা স্মৃতি। সেই আন্দোলনে মমতার পাশে দাঁড়ানো প্রয়াত সাহিত্যিক মহাশ্বেতা দেবী এবং গায়ক প্রতুল মুখোপাধ্যায়ের নামও স্মরণ করা হয়।
আন্দোলনে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ
ধর্মতলার জমায়েতে সাধারণ মানুষের উপস্থিতিও ছিল উল্লেখযোগ্য। বিশেষ করে তরুণ এবং মহিলাদের অংশগ্রহণ চোখে পড়ার মতো ছিল।
সিঙ্গুর থেকে আসা এক ব্যক্তি জানান, তিনি সেই সময় জমির আন্দোলনে মমতার পাশে ছিলেন এবং এখন ভোটাধিকারের প্রশ্নে আবারও ধর্নায় যোগ দিয়েছেন।
এই ধরনের অংশগ্রহণ Mamata Banerjee SIR protest dharna-কে আরও রাজনৈতিক গুরুত্ব দিয়েছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
অভিষেকের রাজনৈতিক বার্তা
ধর্না মঞ্চে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপির বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ করেন।
তিনি নতুন স্লোগানও তুলে ধরেন— “বয়কট বিজেপি”।
অভিষেকের বক্তব্য, শুধু রাজনৈতিক নয়, সামাজিক স্তরেও বিজেপিকে বয়কট করতে হবে।
ভারতের নির্বাচন কমিশনের অফিসিয়াল তথ্য জানতে
https://eci.gov.in
রাজীব কুমারের উপস্থিতি
ধর্মতলার ধর্নামঞ্চে উপস্থিত ছিলেন প্রাক্তন পুলিশ কর্তা রাজীব কুমারও। সাত বছর আগে তাঁর বাড়িতে সিবিআই অভিযানের প্রতিবাদে ধর্নায় বসেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
এই ধর্নামঞ্চে রাজীব কুমারের উপস্থিতি অনেকের মতে একটি প্রতীকী বার্তা বহন করে।
মেনকা গুরুস্বামীর বক্তব্য
ধর্নামঞ্চে উপস্থিত ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামীও। তিনি তৃণমূলের প্রার্থী হিসেবে রাজ্যসভা নির্বাচনে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন।
বক্তৃতায় তিনি বলেন, ভারতের সংবিধান অনুযায়ী প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকের ভোটাধিকার রয়েছে। তিনি দাবি করেন, যদি ভোটার তালিকা নিয়ে কোনও সমস্যা থাকে তবে তা আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমেই মোকাবিলা করা হবে।
পার্শ্বশিক্ষকদের বিক্ষোভ
ধর্না চলাকালীন কয়েকজন পার্শ্বশিক্ষক বেতন বৃদ্ধির দাবিতে প্ল্যাকার্ড নিয়ে বিক্ষোভ দেখান।
মুখ্যমন্ত্রী মঞ্চ থেকে তাঁদের উদ্দেশে বলেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এই ধরনের বিক্ষোভ করা উচিত নয়। পরে পুলিশ তাঁদের অন্যত্র সরিয়ে দেয়।
👉 আরও পড়ুন
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের প্রভাব! LPG Cylinder নিয়ে বড় নির্দেশ, বাড়ল রান্নার গ্যাসের দাম
👉 আরও পড়ুন
পদত্যাগ করলেন পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস, বিস্মিত মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
সামনে কী?
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আসন্ন নির্বাচনের আগে এই ধর্না রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই আন্দোলন আগামী দিনে আরও বড় আকার নিতে পারে বলেও অনেকেই মনে করছেন।
Soumya Kundu | Jan-Vani Digital Desk
