CPIM: হুমায়ুনের সঙ্গে বসার কী দরকার ছিল? সেলিমের উত্তরে খুশি হল না রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলী

কলকাতা: ২৬-এর ভোট সিপিএমের কাছে শূন্য থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াই। সেই ভোটকে সামনে রেখে যখন রাজ্য জুড়ে বিভিন্ন কর্মসূচি চলছে বামেদের, তারই মধ্যে হঠাৎ হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে বৈঠকে বসলেন মহম্মদ সেলিম। দিনকয়েক আগে এক সন্ধ্যায় একটি হোটেলের ঘরে কথা হয় দু’জনের। ভরতপুরের বিধায়ক তথা জনতা ইউনাইটেড পার্টির প্রধান হুমায়ুন কবীর সেই বৈঠক থেকে বেরিয়ে জানান, খুব ভালো কথাবার্তা হয়েছে সিপিএমের রাজ্য সম্পাদকের সঙ্গে। তারপর থেকেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। বামেদের অন্দরমহলেই শুরু হয় চর্চা। এবার রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর বৈঠকেও প্রশ্নের মুখে পড়তে হল সেলিমকে।

আজ, বুধবার প্রায় ৫ ঘণ্টা ধরে চলে রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর বৈঠক। কংগ্রেসকে জোটে পাওয়ার আশা কম, এটা ধরে নিয়েই আইএসএফকে সঙ্গে নিয়ে বিধানসভা নির্বাচনের রণকৌশল চূড়ান্ত করতে চলেছে সিপিএম। অন্যদিকে হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে আসন সমঝোতার যে কোনও প্রশ্নই নেই, সেই ইঙ্গিতই পাওয়া গিয়েছে সিপিএমের রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর এই বৈঠকে।

কেন হুমায়ুনের সঙ্গে কথা বলতে গেলেন রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম? এদিনের বৈঠকে তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন সম্পাদকমণ্ডলীর অধিকাংশ সদস্য। সেলিম জানান, কয়েকটি কৌশলগত কারণে হুমায়ুনের সঙ্গে কথা বলার প্রয়োজন ছিল। সূত্রের খবর সেলিম জানিয়েছেন যে, হুমায়ুন কবীর বারবার সিপিএমের সঙ্গে কথা বলতে চাইছিলেন। সেই কারণে কথা বলা। তবে কোনও কমিটমেন্ট (প্রতিশ্রুতি) করা হয়নি।

তবে সূত্রের খবর, সেলিমের এই ব্যাখ্যায় খুশি নয় সম্পাদকমণ্ডলীর অধিকাংশ সদস্য। তাঁদের বক্তব্য, এর ফলে ভোটারদের কাছে একটা ভুল বার্তা গেল। সামগ্রিক দলকে তুমুল সমালোচনার মুখে পড়তে হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেছেন নেতারা। ভোটের মুখে এই আলোচনা কতটা প্রয়োজনীয় ছিল, তা নিয়েও বৈঠকে প্রশ্ন ওঠে। অবশ্য সেলিম তাঁর ব্যাখ্যা দিয়েছেন বলেই জানা যাচ্ছে। এদিকে, বৃহস্পতিবার বৈঠকে বসতে চলছে বামফ্রন্ট। সেখানেও শরিকদের প্রশ্নের মুখে পড়তে পারেন সিপিএমের মহম্মদ সেলিম। সিপিআই,আরএসপি, ফরওয়ার্ড ব্লকের তরফে এই বিষয়ে প্রশ্ন তোলা হতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

🟢 Join WhatsApp