বঙ্গ রাজনীতির বর্তমান চিত্রে একটি বিষয় ক্রমশ স্পষ্ট হয়ে উঠছে—শাসক নেতৃত্ব নিজের রাজনৈতিক অবস্থান দৃঢ় করে রেখেছে, আর বিরোধীরা যেন মূলত সমালোচনাতেই সীমাবদ্ধ। রাজনৈতিক লড়াই মানে শুধু প্রতিবাদ বা বিবৃতি নয়; তার জন্য প্রয়োজন সংগঠিত বিকল্প, সুস্পষ্ট রূপরেখা এবং মানুষের সঙ্গে ধারাবাহিক সংযোগ।
এই মুহূর্তে প্রধান বিরোধী মুখ হিসেবে বিজেপি দৃশ্যমান। কিন্তু ঐতিহ্যবাহী বাম রাজনীতির উপস্থিতি ঠিক কোন জায়গায়—এই প্রশ্ন উঠছে জনমনে। একসময়ের শক্ত সংগঠন আজ রাজনৈতিক অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে কখনো কংগ্রেস, কখনো আইএসএফ, কখনো স্বতন্ত্র আঞ্চলিক নেতাদের সঙ্গে সমন্বয়ের চেষ্টা করছে—যা অনেকের কাছেই আদর্শগত দোলাচল বলে প্রতীয়মান।
রাজনীতিতে জোট স্বাভাবিক। কিন্তু আদর্শের প্রশ্নে অবস্থান কতটা সুস্পষ্ট—সেই জায়গাটিই আজ আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। দীর্ঘদিন যুগোপযোগী নেতৃত্বের অভাব, কিছু সিদ্ধান্তের বিভ্রান্তি, এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগের ঘাটতি—এই তিনটি কারণই কি বাম রাজনীতিকে বর্তমান অবস্থায় এনে দাঁড় করিয়েছে?
সংবাদমাধ্যমে বিভিন্ন বক্তব্য, তথ্য ও পরিসংখ্যান সামনে আসে। কিন্তু মাঠের রাজনীতিতে তার প্রতিফলন কতটা—তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। রাজনৈতিক কৌশল কি আদর্শের উপর প্রাধান্য পাচ্ছে? নাকি লক্ষ্য শুধুই হারানো জমি পুনরুদ্ধার?
বামেরা রাজৈনৈতিক অস্তিত্ব বজায় রাখার জন্য কখনো কংগ্রেস , কখনো আই এস এফ কখনো হুমায়ুন কবিরের শরণাপন্ন হচ্ছে |
এতো দুর্বল উপস্থিতি ,বামেদের মতো সংগঠানিক প্রতিষ্ঠানের এরকম হাল বড়ই ভাবনার বিষয় |
দীর্ঘদিন যুগউপযোগী নেতৃত্বের অভাব , বিভ্রান্তিকর সিদ্ধান্ত, আর সাধারণ মানুষের সাথে সংযোগের অভাব |
বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে বা অনলাইন মিডিয়া তে বাম নেতারা যে তথ্য তুলে ধরেন তা যদি সঠিক তথ্য হতো তাহলে সেলিম কে রাতের অন্ধকারে হুমায়ুন কবিরের সাথে দেখা করতে হতো না |
যে দক্ষিণপন্থী রাজনীতি হুমায়ুন কবির করে এসেছেন সেই রাজনীতি কোনো ভাবেই বামপন্থা র আদর্শ নয় , তাহলে এটাই দাঁড়ায় যেভাবে হোক রাজগদি ফেরত পেতে হবে | আর সেটাই কি আসল উদেশ্য ?
রাজনৈতিক ইতিহাস বলছে, আদর্শভিত্তিক রাজনীতির শক্তি আসে জনসম্পৃক্ততা থেকে। সেই সংযোগ দুর্বল হলে সংগঠন যতই বড় হোক, তার প্রভাব কমতে থাকে। আজকের বঙ্গ রাজনীতিতে সেই বাস্তবতা চোখে পড়ছে।
সবশেষে, এই প্রশ্নগুলোর উত্তর কোনো বক্তৃতা বা বিবৃতিতে নয়—উত্তর লুকিয়ে আছে আগামী নির্বাচনের ফলাফলে। কারণ শেষ কথা বলবে জনতাই।
তানি সেনগুপ্ত | কোলকাতা | Jan-Vani Digital Desk
