Ali Imran Ramz: ‘আমায় খুনের হুমকি দিচ্ছে, বাঁচান’, কংগ্রেস নেতা ভিক্টরের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ তুলে বিস্ফোরক স্ত্রী

কলকাতা: বিধানসভা নির্বাচনের আগে অস্বস্তি বাড়ল কংগ্রেস নেতা আলি ইমরান রামজ ওরফে ভিক্টরের। তাঁর বিরুদ্ধে মারধর-সহ বিস্ফোরক অভিযোগ করলেন স্ত্রী প্রিয়াঞ্জলি নিয়োগী। রবিবার প্রেস ক্লাবে সাংবাদিক বৈঠক করে মারধরের সিসিটিভি ফুটেজও দেখালেন ভিক্টরের স্ত্রী। উত্তর দিনাজপুরের চাকুলিয়ার প্রাক্তন বিধায়ক ভিক্টর নানা বেআইনি কাজকর্মে জড়িত বলেও তিনি অভিযোগ করলেন। তবে স্ত্রীর সব অভিযোগ উড়িয়ে দিলেন ভিক্টর।

ফরওয়ার্ড ব্লকের টিকিটে ২০১১ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত চাকুলিয়ার বিধায়ক ছিলেন ভিক্টর। একুশের বিধানসভা নির্বাচনে হেরে যান। এরপর ২০২২ সালের অক্টোবরে কংগ্রেসে যোগ দেন তিনি। ভিক্টরের সঙ্গে তাঁর স্ত্রী প্রিয়াঞ্জলির ঝামেলার কথা অনেকবারই সামনে এসেছে। বিবাহ বিচ্ছেদের মামলা চলছে। এদিন রীতিমতো সাংবাদিক বৈঠক করে ভিক্টরের বিরুদ্ধে একের পর এক বিস্ফোরক অভিযোগ করলেন প্রিয়াঞ্জলি।

ভিক্টরের বিরুদ্ধে গার্হস্থ্য হিংসার অভিযোগ তুলে সরব হলেন তাঁর স্ত্রী। বললেন, ভিক্টর ও তাঁর মায়ের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ জানিয়েও সুরাহা হয়নি। ক্ষমতাবলে বারবার রক্ষা পেয়েছেন। তিনি বলেন, “এখন যাতে ওকে পার্টি(কংগ্রেস) থেকে বহিস্কার করে, সেটা চাই। আমি রাহুল গান্ধী, মল্লিকার্জুন খার্গেকে মেইল করে জানিয়েছি।” মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও মেইল করেছেন বলে তিনি জানান।

প্রিয়াঞ্জলি বলেন, “পরিবারের অমতে ১৯ বছরে রেজিস্ট্রি করে আমাদের বিয়ে হয়। ভোট ব্যাঙ্ক হারানোর ভয়ে গর্ভবতী হওয়ার পর নিকাহ করে। আমার নাম পরিবর্তন করে। এই নিয়ে কথা বলতে গেলে আমার পেটে ঘুষি মারে ও গর্ভপাত হয়। পরে ফের বাচ্চা হলেও অত্যাচার এই চলতে থাকে।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, “‎যৌতুকের জন্যে চাপ দিতে থাকে। আমার দিদার কাছ থেকে প্রায় ৫০-৬০ লাখ টাকার গয়না ও টাকা নেয়। পরে ইমরান ও তাঁর মা অত্যাচার করতে থাকে। মারধর করে। ফিনায়েল খাওয়ানোর চেষ্টা করে। নতুন ফ্ল্যাট কেনার জন্যে ইমরান অর্ধেক টাকা দেয়। বাকি টাকা আমার দিদা দেন। ঋণ হিসাবে দিদার থেকে নেয়। আমার নামে ফ্ল্যাট হওয়া সত্ত্বেও বাড়ি থেকে আমায় বের করে দেয়। আমি থানায় গেলেও অভিযোগ নেয়নি। পরে আবার অত্যাচার করলে হাসপাতাল ভর্তি হতে হয়। তারপর পুলিশে অভিযোগ করি। তাও কিছু হয়নি।”

পরবর্তীতে আলিপুর কোর্টে মিউচ্যুয়াল ডিভোর্সের জন্য আবেদন করেন তাঁরা। প্রিয়াঞ্জলি বলেন, “কথা অনুযায়ী আমায় ডিভোর্স দেয়নি। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে আমি ইমরান আর ওর মায়ের বিরুদ্ধে এফআইআর করি। পরে আমায় আবার জোর করে মারধর করে MOU সই করে সব থেকে মুক্ত হয়। আমার ফ্ল্যাট, টাকা, গয়না সব নিয়ে নেয়। গতকাল রাতে আমার সন্তানকে আনতে গেলেও আমায় আবার মারধর করে। আমি বাড়ি থাকলে ওর বন্ধুদের পাঠায় হুমকি দিতে ও দেখতে।”

Allegation Against Former Mla Victor
ভিক্টরের স্ত্রী প্রিয়াঞ্জলি নিয়োগী

একইসঙ্গে তাঁর অভিযোগ, ‎”ইমরানের কালো টাকা রয়েছে। অনেক বেআইনি কাজ করে। প্রমাণ আমার কাছে আছে। আমায় হুমকি দিয়েছে, যদি আমি এগুলো বলি, আমায় খুন করে দেবে।” ইমরানের বাড়িতে তাঁকে মারধরের সিসিটিভি ফুটেজও দেখান প্রিয়াঞ্জলি। মুখ্যমন্ত্রীর কাছে তাঁকে বাঁচানোর আবেদন করেছেন। একইসঙ্গে কংগ্রেসের কাছে তাঁর আবেদন, ভিক্টরকে দল থেকে বহিষ্কার করা হোক। তিনি বলেন, “যে নিজের বউকে বাড়িতে অত্যাচার করে, সে সমাজকে কিভাবে বাঁচাবে? আমায় খুনের হুমকি দিচ্ছে। আমায় বাঁচান।”

যদিও স্ত্রীর সমস্ত অভিযোগ খারিজ করে দিলেন ভিক্টর। স্ত্রীকে মারধরের অভিযোগ উড়িয়ে তিনি বলেন, “এসব কিছু হয়নি।” ৩ বছর ধরে বিবাহ বিচ্ছেদের মামলা চলছে। তাই কোর্টের ব্যাপারে এখন কিছু বলতে চান না বলে জানালেন। একইসঙ্গে তাঁর বক্তব্য, ভোটের আগে এই প্রেস কনফারেন্স করছেন তাঁর স্ত্রী। এর পিছনে তিনি অন্য দলের ইন্ধন দেখতে পাচ্ছেন। কালো টাকা ও বেআইনি কাজকর্মের অভিযোগ নিয়ে তাঁর বক্তব্য, অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রশাসন ব্যবস্থা নেবে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

🟢 Join WhatsApp