দেশপ্রিয় পার্কে আয়োজিত বিশেষ অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী সম্মান তুলে দিলেন সঙ্গীত, সাহিত্য ও সমাজের কৃতী ব্যক্তিত্বদের হাতে

ভাষা ও সংস্কৃতির গৌরবকে সম্মান

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে কলকাতার দেশপ্রিয় পার্কে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে প্রদান করা হল পশ্চিমবঙ্গের সর্বোচ্চ সম্মান ‘বঙ্গ বিভূষণ’। এই অনুষ্ঠানে রাজ্যের বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বদের তাঁদের অসামান্য অবদানের জন্য সম্মানিত করা হয়।

এই সম্মান শুধুমাত্র একটি পুরস্কার নয়, বরং বাংলা ভাষা, সাহিত্য, সঙ্গীত ও সমাজের প্রতি দীর্ঘদিনের অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত হয়।


মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে ভাষার গুরুত্ব

অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলা ভাষা শুধুমাত্র যোগাযোগের মাধ্যম নয়, এটি আমাদের সংস্কৃতি ও পরিচয়ের প্রতীক। ভাষা আন্দোলনের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে তিনি জানান, বাংলা ভাষাকে সমৃদ্ধ করার জন্য নতুন প্রজন্মকে আরও এগিয়ে আসতে হবে।

তিনি আরও বলেন, যাঁরা বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতিকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন, তাঁদের সম্মান জানানো রাজ্যের গর্ব।


বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বদের সম্মাননা প্রদান

এই অনুষ্ঠানে সঙ্গীত, সাহিত্য, শিল্প ও সমাজসেবার সঙ্গে যুক্ত একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বদের হাতে শাল, স্মারক ও সম্মানপত্র তুলে দেওয়া হয়। এবারের সম্মানপ্রাপকদের মধ্যে অন্যতম অনন্ত মহারাজ, যিনি রাজবংশী সমাজের একজন প্রভাবশালী নেতা এবং বর্তমানে রাজ্যসভার সাংসদ। উত্তরবঙ্গের মানুষের উন্নয়ন ও সামাজিক কাজে তাঁর অবদান বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

সঙ্গীত জগত থেকে সম্মানিত হয়েছেন বিশিষ্ট গায়ক ও সংগীতকার নচিকেতা চক্রবর্তী। তাঁর গান দীর্ঘদিন ধরে বাংলা সঙ্গীতপ্রেমীদের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছে। একইসঙ্গে প্রখ্যাত গায়ক ও রাজনীতিবিদ বাবুল সুপ্রিয় তাঁর বহুমুখী প্রতিভার জন্য এই সম্মান অর্জন করেছেন।

জনপ্রিয় গায়িকা লোপামুদ্রা মিত্র তাঁর রবীন্দ্রসঙ্গীত পরিবেশনের মাধ্যমে বাংলা সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করেছেন। জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত শিল্পী ইমন চক্রবর্তীও তাঁর সঙ্গীতের মাধ্যমে বাংলা চলচ্চিত্র ও সংগীত জগতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন।

সাহিত্যের জগত থেকে সম্মানিত হয়েছেন কবি শ্রীজাত, যাঁর কবিতা সমকালীন সমাজের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে। এছাড়া সংগীতশিল্পী শিবাজী চট্টোপাধ্যায় ও শ্রীরাধা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁদের সঙ্গীতের মাধ্যমে বাংলা সংস্কৃতির ঐতিহ্যকে সমুন্নত রেখেছেন। বিশিষ্ট চিত্রশিল্পী গণেশচন্দ্র হালুই তাঁর শিল্পকর্মের মাধ্যমে বাংলা চিত্রকলাকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছেন।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন,
“এঁরা বাংলার গর্ব। ভাষা ও সংস্কৃতির এই যোদ্ধাদের সম্মান না করলে আমরা নিজেদের ঐতিহ্য ভুলে যাব।”

অনুষ্ঠানের সাংস্কৃতিক পর্বে রবীন্দ্রসঙ্গীত, নজরুলগীতি, লোকগান এবং একুশের গান পরিবেশিত হয়। ভাষা আন্দোলনের স্মরণে শহিদ মিনারে শ্রদ্ধাঞ্জলি জানানো হয় এবং বাংলা ভাষার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।

মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, বাংলা ভাষার ক্লাসিক্যাল মর্যাদা অর্জন একটি ঐতিহাসিক সাফল্য এবং নতুন প্রজন্মকে বাংলা ভাষা শেখা ও ব্যবহার করার আহ্বান জানান।

এই অনুষ্ঠান বাংলা ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের এক গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।এনে দিয়েছে।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশনাও অনুষ্ঠিত হয়, যা অনুষ্ঠানের পরিবেশকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।


ভাষা দিবসের তাৎপর্য

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস বিশ্বজুড়ে ভাষার গুরুত্ব তুলে ধরার একটি বিশেষ দিন। এই দিনটি ভাষার প্রতি শ্রদ্ধা জানানো এবং ভাষার ঐতিহ্য সংরক্ষণের বার্তা দেয়।

এই ধরনের অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির গুরুত্ব নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

🟢 Join WhatsApp