Cooch Behar: ‘দাদু ডেকে নিয়ে গিয়েছিল…’, নদীপাড়ে ধর্ষণ নাবালিকা, গ্রেফতার ষাটোর্ধ্ব

কোচবিহার: নাবালিকা নদীর ধারে খড়ি আনতে ডেকেছিল ‘দাদু’। কিন্তু তার পরিণতি এতটা ভয়ঙ্ক হবে, তা হয়তো ভাবতে পারেনি সেই নাবালিকা। শনিবার দফায় দফায় উত্তেজনা ছড়াল কোচবিহারের মেখলিগঞ্জ ঘিরে। সেখানে জামালদহে নদীপাড়ে গিয়ে ধর্ষণের শিকার এক নাবালিকা, এমনটাই অভিযোগ। যা ঘিরে তপ্ত হল এলাকা। চলল প্রতিবাদ, অবরোধ। হল লাঠিচার্জও।

ঘটনা বৃহস্পতিবারের। মেখলিগঞ্জের জামালদহে নদীপাড়ে খড়ি আনতে গিয়েছিল এক নাবালিকা। অভিযোগ, সেই সময়ই এক ষাটোর্ধ্ব বৃদ্ধ ওই নাবালিকাকে ধারাল অস্ত্র দেখিয়ে ভয় দেখায়, খুনের হুমকি দেয় এবং প্রাণের ভয় দেখিয়ে ধর্ষণ করে। এই সময় স্থানীয় এক মহিলা গোটা ব্যাপারটি লক্ষ্য করেন। ওই বর্বর নির্যাতন থেকে তাঁকে উদ্ধার করে বাড়িতে দিয়ে আসে, দাবি স্থানীয়দের। এদিন নাবালিকা জানিয়েছেন, ‘আমি জামাকাপড় শুকাতে দিচ্ছিলাম। তখন দাদু আমাকে নদীপাড়ের দিকে ডাকে। বলে খড়ি রয়েছে।’ এরপরেই প্রথমে হুমকি, তারপর ধর্ষণ।

কিন্তু একটার পর একটা দিন কেটে গেলেও নাবালিকার পরিবার থানায় দ্বারস্থ হয়নি। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্তের হুমকি-ভয়ে সেই সাহস দেখায়নি তাঁরা। এই আবহেই শনিবার সবটা জানাজানি হয়ে যায়। এদিন সন্ধ্যায় স্থানীয়রা নির্যাতিতা ও তাঁর পরিবারকে জামালদহ ফাঁড়িতে নিয়ে যায়। দায়ের হয় লিখিত অভিযোগ। এরপরেই ষাটোর্ধ্ব অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে মেখলিগঞ্জ থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।

ইতিমধ্যেই এই নাবালিকা ধর্ষণের ঘটনায় এদিন রাতে জামালদহে টায়ার জ্বালিয়ে রাজ্য সড়ক অবরোধ করেন প্রতিবাদীরা। যার জেরে দীর্ঘক্ষণ স্তব্ধ হয়ে যায় এলাকা। অবরোধকারীদের তুলতে কথা বলার সময় ছড়ায় উত্তেজনা। পাথর ছোড়ে বিক্ষুদ্ধ জনতা। যার জেরে আহত হন ওসি মহম্মদ শাহবাজ। পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে গেলে শুরু হয় লাঠিচার্জ। ছত্রভঙ্গ হয় প্রতিবাদ। বেশ কয়েকজন প্রতিবাদীকেও আটক করে পুলিশ। এখন থমথমে এলাকা। চলছে পুলিশি টহলদারি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

🟢 Join WhatsApp