CPIM: ‘নৈতিকতার ঠেকা’ নিয়ে কি এবার তাল ঠোকাঠুকি শুরু সিপিএমের ২ তরুণ নেতার?

কলকাতা: দু’জনেই সিপিএমের তরুণ প্রজন্মের নেতা। একজন নিউজ চ্যানেলগুলির বিতর্কসভায় প্রায় নিয়মিত মুখ। নানা যুক্তি দিয়ে বিরোধীদের নিশানা করেন। অন্যজনকে সংবাদমাধ্যমের সামনে তেমন মুখ খুলতে দেখা যায় না। ‘নৈতিকতার ঠেকা’ মন্তব্য নিয়ে সিপিএমের এই দুই তরুণ নেতা-ই কি এবার তাল ঠোকাঠুকি শুরু করলেন? নাম না করে কি শতরূপ ঘোষকে নিশানা করলেন চব্বিশের লোকসভা নির্বাচনে ডায়মন্ড হারবারের সিপিএম প্রার্থী প্রতীক উর রহমান?

রবিবার সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট করেছেন প্রতীক উর। সেখানে তিনি লিখেছেন, ‘নীতি নৈতিকতা ছাড়া, আর যাই হোক, কমিউনিস্ট পার্টি হয় না।’ এক লাইনের একটা পোস্ট। কারও নামোল্লেখ করেননি। কিন্তু, তাঁর এই পোস্ট নিয়েই জল্পনা বেড়েছে। কাকে উদ্দেশ্য করে হঠাৎ এই পোস্ট করতে গেলেন প্রতীক উর? তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে দেখা যাচ্ছে, এর আগে শেষবার তিনি পোস্ট করেছিলেন গত বছরের ১৯ ডিসেম্বর। প্রায় দেড় মাস পর এই এক লাইন পোস্ট কার জন্য? সংবাদ মাধ্যমের সামনে তিনি কিছু বলেননি। কিন্তু, তাঁর ঘনিষ্ঠ মহলে জানিয়েছেন, সম্প্রতি ‘নৈতিকতার ঠেকা’ নিয়ে তরুণ সিপিএম নেতা শতরূপ ঘোষের মন্তব্যের জেরেই এই পোস্ট করেছেন। 

‘নৈতিকতার ঠেকা’ নিয়ে কী মন্তব্য করেছিলেন শতরূপ ঘোষ?

কয়েকদিন আগে সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম বৈঠক করেছিলেন জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রধান হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে। হুমায়ুনের সঙ্গে সেলিমের এই বৈঠক নিয়ে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি তৃণমূল ও বিজেপি। হুমায়ুনের সঙ্গে সেলিম কী করে বৈঠক করলেন, সেই প্রশ্ন তোলে। তারই জবাব দিতে গিয়ে ‘নৈতিকতার ঠেকা’ মন্তব্য করেছিলেন শতরূপ। তিনি বলেছিলেন, “সিপিএম তো এখনও বলেনি, হুমায়ুনকে ভরসা করবে কি না। কিন্তু, সমস্ত নীতি নৈতিকতার ঠেকা কি আমরা একা নিয়ে বসে রয়েছি? বিজেপি তাকে প্রার্থী করলে দোষ নেই। তৃণমূল মন্ত্রী করলে দোষ নেই। সিপিএম তাঁর সঙ্গে কথা বললে অপরাধ হয়ে গেল? ভোটের জন্য বিজেপি, তৃণমূল রাজনীতি করবে, তখন নৈতিকতার প্রশ্ন আসবে না। তোমরা দেশের সরকার চালাচ্ছ, রাজ্যের সরকার চালাচ্ছ, তোমরা নৈতিকতার ধার ধারবে না। আর যাবতীয় নৈতিকতার ঠেকা কি আমরা নিয়ে বসে রয়েছি?”

প্রতীক উর সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে কারও নাম না করলেও তাঁর এই পোস্ট নিয়ে এদিন শতরূপ বলেন, “প্রতীক উর আমাদের পার্টির অত্যন্ত শৃঙ্খলাপরায়ণ নেতা। ওর পার্টির কারও কথার প্রেক্ষিতে কিছু বলার থাকলে পার্টির মধ্যেই বলত। প্রতীক উর নিজের কোনও সহকর্মীর কথার পরিপ্রেক্ষিতে মিডিয়া কিংবা সোশ্যাল মিডিয়ায় মন্তব্য করতে পারে, এ আমি কিছুতেই বিশ্বাস করি না।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

🟢 Join WhatsApp