জরায়ুমুখ ক্যানসার রুখতে বিশেষ জাতীয় অভিযান, ব্যবহার হবে Gardasil-4 ভ্যাকসিন

জরায়ুমুখ ক্যানসার প্রতিরোধে ঐতিহাসিক পদক্ষেপ, কিশোরীদের জন্য শুরু হচ্ছে HPV টিকাকরণ কর্মসূচি

নয়াদিল্লি: দেশের মহিলাদের মধ্যে অন্যতম প্রতিরোধযোগ্য ক্যানসার—জরায়ুমুখ ক্যানসারের বিরুদ্ধে বড় উদ্যোগ নিতে চলেছে কেন্দ্র সরকার। খুব শিগগিরই ১৪ বছর বয়সী কিশোরীদের জন্য দেশজুড়ে মানব প্যাপিলোমা ভাইরাস (HPV) টিকাকরণ কর্মসূচি শুরু হতে পারে বলে সরকারি সূত্রে জানা গেছে।

এই বিশেষ অভিযানে ব্যবহৃত হবে Gardasil-4 ভ্যাকসিন, যা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত এবং জরায়ুমুখ ক্যানসার প্রতিরোধে কার্যকর বলে বহু গবেষণায় প্রমাণিত।


কেন গুরুত্বপূর্ণ HPV টিকাকরণ?

HPV (Human Papillomavirus) একটি সাধারণ ভাইরাস, যা যৌন সংস্পর্শের মাধ্যমে ছড়াতে পারে। ভাইরাসটির কিছু নির্দিষ্ট টাইপ—বিশেষত ১৬ এবং ১৮—জরায়ুমুখ ক্যানসারের প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) দীর্ঘদিন ধরে HPV টিকাকরণকে জরায়ুমুখ ক্যানসার নির্মূলের অন্যতম প্রধান কৌশল হিসেবে উল্লেখ করে আসছে। ভারতের এই উদ্যোগ সেই আন্তর্জাতিক সুপারিশের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।


১৪ বছর বয়স কেন আদর্শ?

চিকিৎসাবিজ্ঞানীদের মতে, ১৪ বছর বয়স টিকাকরণের জন্য অত্যন্ত উপযুক্ত সময়।

✔ এই বয়সে শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা টিকার প্রতি শক্ত প্রতিক্রিয়া দেখায়
✔ ভবিষ্যতে সংক্রমণের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে
✔ দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষা তৈরি হয়

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভাইরাসের সম্ভাব্য সংস্পর্শের আগেই টিকা দিলে তা সবচেয়ে কার্যকর হয়।


Gardasil-4 কীভাবে কাজ করে?

এই কর্মসূচিতে ব্যবহৃত হবে Gardasil-4, যা একটি কোয়াড্রিভ্যালেন্ট ভ্যাকসিন।

এটি সুরক্ষা দেয়:

  • HPV টাইপ ১৬ ও ১৮ (জরায়ুমুখ ক্যানসারের প্রধান কারণ)
  • HPV টাইপ ৬ ও ১১ (জেনিটাল ওয়ার্টসের জন্য দায়ী)

ভারতে এই টিকা উৎপাদন ও বিপণন করে MSD India।

বর্তমানে বেসরকারি বাজারে ১৫ বছরের নিচে দুই ডোজ এবং ১৫ বছরের বেশি বয়সে তিন ডোজ প্রয়োজন হয়। তবে সরকারি বিশেষ অভিযানে নির্দিষ্ট বয়সে এক ডোজ ব্যবহার করা হতে পারে বলে জানা গেছে। আন্তর্জাতিক গবেষণার ভিত্তিতে দাবি করা হচ্ছে, উপযুক্ত বয়সে এক ডোজও দীর্ঘস্থায়ী সুরক্ষা দিতে সক্ষম।


নিয়মিত টিকাকরণ নয়, বিশেষ জাতীয় অভিযান

এই কর্মসূচি দেশের নিয়মিত টিকাকরণ সূচির অংশ নয়। বরং এটি একটি পৃথক জাতীয় জনস্বাস্থ্য অভিযান হিসেবে পরিচালিত হবে।

লক্ষ্য:
👉 কিশোরীদের সঠিক বয়সে সুরক্ষা প্রদান
👉 ভবিষ্যতে জরায়ুমুখ ক্যানসারের হার কমানো
👉 দীর্ঘমেয়াদে মৃত্যুহার হ্রাস

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতে প্রতিবছর বহু নারী জরায়ুমুখ ক্যানসারে আক্রান্ত হন এবং অনেক ক্ষেত্রে দেরিতে রোগ নির্ণয় হওয়ায় চিকিৎসা জটিল হয়ে ওঠে।


জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মত

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, টিকাকরণ কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে আগামী এক দশকে জরায়ুমুখ ক্যানসারের প্রকোপ উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।

তবে তারা জোর দিচ্ছেন সচেতনতার উপরও। কারণ টিকা সম্পর্কে ভুল ধারণা বা ভয় অনেক সময় অংশগ্রহণ কমিয়ে দেয়। স্কুলভিত্তিক ক্যাম্প বা সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মাধ্যমে সহজলভ্য ব্যবস্থা করলে উদ্যোগটি আরও কার্যকর হতে পারে।


অভিভাবকদের প্রতিক্রিয়া

অভিভাবকদের একাংশ এই পদক্ষেপকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তাঁদের মতে, সরকার যদি বিনামূল্যে বা স্বল্প খরচে টিকা উপলব্ধ করে এবং সঠিক তথ্য প্রচার করে, তবে কিশোরীদের ভবিষ্যৎ স্বাস্থ্য সুরক্ষিত করা সম্ভব হবে।


সামনে কী?

সরকারি ঘোষণা এবং বিস্তারিত নির্দেশিকা শিগগিরই প্রকাশ হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। টিকাকরণ শুরু হলে তা দেশের নারীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে।

Soumya Kundu | Jan-Vani Digital Media Desk

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

🟢 Join WhatsApp