Kerala renamed Keralam Centre approval Mamata reaction

কেরালার নাম পরিবর্তনে কেন্দ্রের সম্মতি, কিন্তু ‘বাংলা’ নামের প্রস্তাব ঝুলে — বিজেপিকে ‘বঙ্গবিরোধী’ আখ্যা মমতার

কেরালার নাম পরিবর্তন করে ‘কেরালম’ করার প্রস্তাবে কেন্দ্রের অনুমোদন মিলতেই রাজনৈতিক বিতর্ক তীব্র হয়েছে। Kerala renamed Keralam Centre approval-এর পর পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রশ্ন তুলেছেন, কেন তাঁর সরকারের ‘বাংলা’ নামের প্রস্তাব এখনও ঝুলে রয়েছে।

মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে তিনি কেরালার মানুষকে অভিনন্দন জানালেও অভিযোগ করেন, পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে কেন্দ্র বৈষম্যমূলক আচরণ করছে।


‘বাংলা’ প্রস্তাব কেন আটকে?

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, আট বছর আগে পশ্চিমবঙ্গের নাম পরিবর্তন করে ‘বাংলা’ করার প্রস্তাব রাজ্য বিধানসভায় পাশ করা হয়। শুধু একবার নয়, কেন্দ্রের নির্দেশ মেনে তিন ভাষাতেই (বাংলা, হিন্দি ও ইংরেজি) একই নাম রাখার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়।

তাঁর বক্তব্য, একাধিকবার প্রধানমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে এই বিষয়টি উত্থাপন করা হলেও এখনও অনুমোদন মেলেনি।

তিনি বলেন, “আমাদের প্রস্তাব বারবার পাঠানো হয়েছে। কিন্তু কোনও অগ্রগতি হয়নি। কেন কেরালার প্রস্তাব অনুমোদন পেল আর বাংলা পেল না?”


বিজেপিকে ‘বঙ্গবিরোধী’ আখ্যা

Kerala renamed Keralam Centre approval প্রসঙ্গে মমতা অভিযোগ করেন, কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক প্রভাবিত। তাঁর দাবি, কেরালার শাসক দল ও বিজেপির মধ্যে সমঝোতার কারণেই দ্রুত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, “তাঁরা ভোটের সময় ‘বাংলা’ শব্দ ব্যবহার করেন, কিন্তু বাস্তবে বাংলার প্রতি সম্মান দেখান না।”

তবে তিনি এও স্পষ্ট করেন, অন্য কোনও রাজ্যের নাম পরিবর্তনে তাঁর আপত্তি নেই। “আমরা সব রাজ্যকে ভালবাসি। অন্য রাজ্য নাম বদলালে আমাদের আপত্তি নেই,” বলেন তিনি।


নাম পরিবর্তনের পেছনের যুক্তি

পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তরফে জানানো হয়েছিল, ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল’ নামটি ঔপনিবেশিক আমলের স্মারক। রাজ্যের সংস্কৃতি ও ভাষার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ‘বাংলা’ নামটি প্রস্তাব করা হয়েছিল।

এছাড়া প্রশাসনিক দিক থেকেও নাম পরিবর্তনের যুক্তি দেওয়া হয়েছিল। মমতার দাবি, ইংরেজি বর্ণানুক্রম অনুযায়ী ‘W’ দিয়ে শুরু হওয়ায় অনেক ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গ তালিকার শেষে চলে যায়। ফলে বিভিন্ন জাতীয় স্তরের বৈঠক বা অনুষ্ঠানে রাজ্যের প্রতিনিধিদের বক্তব্য রাখার সুযোগও শেষদিকে আসে।


কেন্দ্রের আপত্তি কী?

২০১৮ সালে প্রস্তাব পাঠানোর পর কেন্দ্রীয় বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছিল, ‘বাংলা’ নামটি প্রতিবেশী রাষ্ট্র বাংলাদেশের নামের সঙ্গে অত্যন্ত সাদৃশ্যপূর্ণ। আন্তর্জাতিক স্তরে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে—এই যুক্তিই মূল আপত্তি হিসেবে জানানো হয়।

এদিকে, Kerala renamed Keralam Centre approval-এর ক্ষেত্রে কেন্দ্র জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট সাংবিধানিক প্রক্রিয়া মেনে প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে।

ভারতের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩ অনুযায়ী, কোনও রাজ্যের নাম পরিবর্তনের জন্য সংসদের অনুমোদন প্রয়োজন। বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে ভারতের সরকারি পোর্টালে:
👉 https://www.india.gov.in


রাজনৈতিক তাৎপর্য

বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজ্যের নাম পরিবর্তন শুধু প্রশাসনিক বিষয় নয়, এর সঙ্গে সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক আবেগও জড়িয়ে থাকে। কেরালার ক্ষেত্রে ‘কেরালম’ নামটি স্থানীয় ভাষা মালয়ালমের উচ্চারণের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

অন্যদিকে, পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে ‘বাংলা’ নামের প্রস্তাব দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় থাকলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। ফলে Kerala renamed Keralam Centre approval-এর পর এই ইস্যু নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক উসকে দিয়েছে।


আরও পড়ুন (Internal Links)

👉 আরও পড়ুন:
ভোটের আগে বড় সিদ্ধান্ত, বাহিনী আর বসে থাকবে না

👉 ঝরে গেলো রাজনীতির ‘মুকুল‘ ! বিস্ফোরক কুনাল !!


সামনে কী?

রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, রাজ্যের নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত বহন করে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে রাজনৈতিক পরিস্থিতি বদলালে ‘বাংলা’ নামের প্রস্তাব আবারও জোরদার করা হবে।


উপসংহার

সব মিলিয়ে, Kerala renamed Keralam Centre approval শুধুমাত্র একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, এটি কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্ক ও রাজনৈতিক কৌশলের দিক থেকেও তাৎপর্যপূর্ণ। কেরালার নাম পরিবর্তনকে অভিনন্দন জানালেও পশ্চিমবঙ্গের ‘বাংলা’ প্রস্তাব ঝুলে থাকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী।

এখন দেখার বিষয়, কেন্দ্রীয় সরকার ভবিষ্যতে এই প্রস্তাব নিয়ে কী পদক্ষেপ নেয়।

Soumya Kundu | Jan-Vani Digital Desk

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

🟢 Join WhatsApp