প্রাক্তন ট্রাস্টি কৃষ্ণ দামানির বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ, মানি লন্ডারিংয়ের সন্দেহে তদন্ত জোরদার এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের
কলকাতা, নিজস্ব সংবাদদাতা: দক্ষিণ কলকাতার অন্যতম প্রখ্যাত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সাউথ পয়েন্ট স্কুলকে ঘিরে সামনে এল বড়সড় আর্থিক কেলেঙ্কারির অভিযোগ। স্কুলের তহবিল থেকে কোটি কোটি টাকা নয়ছয়ের অভিযোগে প্রাক্তন ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য কৃষ্ণ দামানির বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, স্কুলের তহবিল থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ বেআইনিভাবে সরিয়ে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করা হয়েছে।
ইডি সূত্রে জানা গেছে, সাউথ পয়েন্ট স্কুলের ট্রাস্টের তহবিল থেকে একাধিক সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে কয়েক কোটি টাকা সরানো হয়। তদন্তে উঠে এসেছে, এই অর্থ বিভিন্ন সময়ে কৃষ্ণ দামানির পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ট্রান্সফার করা হয়েছে। অভিযোগ, এই লেনদেনের কোনও বৈধ প্রশাসনিক অনুমোদন বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয় ব্যয়ের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক ছিল না।
তদন্তকারী সংস্থা তাদের চার্জশিটে উল্লেখ করেছে, ট্রাস্টের আর্থিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে পরিকল্পিতভাবে এই অর্থ সরানো হয়েছে। ইডির মতে, এটি একটি সুসংগঠিত আর্থিক দুর্নীতির অংশ হতে পারে এবং মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের আওতায় বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তদন্ত চলাকালীন ইডি বিভিন্ন ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, ট্রাস্টের আর্থিক নথি এবং লেনদেনের বিস্তারিত তথ্য পরীক্ষা করে। সেখানে দেখা যায়, ধারাবাহিকভাবে স্কুলের তহবিল থেকে বড় অঙ্কের অর্থ অন্য অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করা হয়েছে এবং এই লেনদেনের যথাযথ হিসাব বা স্বচ্ছতা নেই বলে অভিযোগ।
এই ঘটনায় শিক্ষামহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সাউথ পয়েন্ট স্কুল কলকাতার অন্যতম সেরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত। ফলে এই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে এমন গুরুতর আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ সামনে আসায় অভিভাবক, ছাত্রছাত্রী এবং প্রাক্তনীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
ইডি ইতিমধ্যে বিশেষ আদালতে চার্জশিট জমা দিয়েছে। আদালত এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন নির্ধারণ করবে। তদন্তকারী সংস্থা জানিয়েছে, প্রয়োজনে আরও ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে এবং নতুন তথ্য সামনে এলে অতিরিক্ত চার্জশিটও দাখিল করা হতে পারে।
এই বিষয়ে স্কুল কর্তৃপক্ষের তরফে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে তদন্তের অগ্রগতির উপরই নির্ভর করছে এই মামলার ভবিষ্যৎ।
