Sukanta Majumdar: কাদের ভারতের নাগরিক হতে দেবেন না? বহরমপুর থেকে হুঁশিয়ারি সুকান্তর

বহরমপুর: এসআইআর নিয়ে রাজনৈতিক তরজা বাড়ছে। শাসকদলের হুঙ্কার, একজন বৈধ ভোটারের নাম গেলে রাস্তায় নামবে তারা। আবার গেরুয়া শিবিরের বক্তব্য, বাংলায় ভোটার তালিকা থেকে বাদ দিতে হবে রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশি মুসলিম অনুপ্রবেশকারীদের নাম। এই পরিস্থিতিতে বড় হুঁশিয়ারি দিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা রাজ্য বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। রবিবার মুর্শিদাবাদের বহরমপুরে বিজেপির পরিবর্তন সংকল্প যাত্রা থেকে তাঁর হুঁশিয়ারি, বাংলাদেশি মুসলিম অনুপ্রবেশকারীদের কোনও মতেই ভারতের নাগরিক হতে দেবেন না তাঁরা।

এদিন বহরমপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে টেক্সটাইল মোড় পর্যন্ত মিছিলে হাঁটেন সুকান্ত। তারপর টেক্সটাইল মোড়ে সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে আগাগোড়া তৃণমূলকে নিশানা করেন। কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরীর প্রসঙ্গে সুকান্ত বলেন, “অধীরদা দীর্ঘদিন রাজনীতি করেন। তিনি ধর্মনিরপেক্ষতার কথা বলতেন। তাঁকেই ধর্মনিরপেক্ষতা ধাপ্পা দিল। ইউসুফ পাঠান আসতেই তাঁকে হারতে হল। অধীর চৌধুরী আপনি কংগ্রেসেই থাকুন।”

এদিন নাম না করে হুমায়ুন কবীরকেও হুঁশিুয়ারি দেন সুকান্ত। তিনি বলেন, “মুর্শিদাবাদ জেলার এক প্রাক্তন তৃণমূল নেতা বর্তমানে নতুন দল করেছেন। সগর্বে বলতেন, মুর্শিদাবাদে হিন্দু ৩০, আমরা ৭০ শতাংশ। ভাগীরথীতে ভাসিয়ে দেব। সেই জন্য এই মুহূর্তে এই রাজ্যে ভারতীয় জনতা পার্টির সরকার দরকার। আর যারা কেটে ভাগীরথীতে ভাসিয়ে দেওয়ার কথা বলে, তাদের মনে করিয়ে দিতে চাই, এখনও ভারতবর্ষের প্রধানমন্ত্রী নাম নরেন্দ্র মোদী। ভারতের সংবিধান সবাইকে মানতে হবে।”

এসআইআর নিয়ে নানা প্রশ্ন তুলে লাগাতার কমিশন ও বিজেপিকে নিশানা করে চলেছে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। এদিন বহরমপুরের সভা থেকে সুকান্ত বলেন, “আমরা মনে করি এসআইআর অত্যন্ত জরুরি। কারণ, যে ধর্মের হোক, ভারতের নাগরিকের নাম সেই তালিকায় থাকবে। আর উদ্বাস্তুদের আমরা নাগরিকত্ব দেব। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আটকাতে পারবেন না। কিন্তু, বাংলাদেশ থেকে আসা মুসলিম অনুপ্রবেশকারীদের নাগরিক হতে দেব না। মুসলিম অনুপ্রবেশকারীদের নাম থাকবে না। খাকবে না। যেসব মুসলিম স্বাধীনতার পর ওপারে চলে গিয়েছিল, তাদের ফিরে আসার কোনও জায়গা নেই।” মুর্শিদাবাদের মানুষকে বিজেপিতে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “মুর্শিদাবাদের শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষ বিজেপিকে সমর্থন করুন।”

এদিন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ করে সুকান্ত বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শুধুমাত্র মহিলা সিমপ্যাথি নেওয়ার চেষ্টা করছেন। এবং আমি বলছি, এটা অন্য কোনও দেশ হলে হয়তো রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হয়ে যেত। আপনি ভারতের নির্বাচন কমিশনকে মানবেন না, অথচ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন, এটা তো হতে পারে না।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

🟢 Join WhatsApp