ভোটের আগে বড় সিদ্ধান্ত, বাহিনী আর বসে থাকবে না

ভোটের সময় কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক রয়েছে। বিরোধী দলগুলির অভিযোগ—কেন্দ্রীয় বাহিনী আনা হলেও তাদের অনেক সময় সক্রিয়ভাবে কাজে লাগানো হয় না। এই প্রেক্ষাপটে এবার কড়া অবস্থান নিল নির্বাচন কমিশন (Election Commission)।

সোমবার কমিশন ও রাজ্য পুলিশ প্রশাসনের এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে—ভোটের দায়িত্বে এসে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে নিষ্ক্রিয় রাখা যাবে না। তাদের সরাসরি দায়িত্বে নামাতে হবে এবং স্পর্শকাতর এলাকাগুলিতে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।

এই নির্দেশ ঘিরেই রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছে।


বৈঠকে কী নির্দেশ দিল কমিশন?

সূত্রের খবর, বৈঠকে কমিশন প্রশ্ন তোলে—ভোটের দায়িত্ব নিয়ে বাহিনী কি শুধু ক্যাম্পে বসে থাকবে? কমিশনের বক্তব্য, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে হলে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে সক্রিয়ভাবে মাঠে নামাতে হবে।

যদিও এখনও কোন জেলায় কত কোম্পানি মোতায়েন হবে, তার চূড়ান্ত তালিকা তৈরি হয়নি। তবে প্রশাসনিক সূত্রে ইঙ্গিত, স্পর্শকাতর ও অতিস্পর্শকাতর এলাকাগুলিকে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত—কেন্দ্রীয় বাহিনীর যানবাহনে জিপিএস ট্র্যাকিং ব্যবস্থা থাকবে। এর মাধ্যমে বাহিনীর গতিবিধি নজরদারির আওতায় থাকবে। এতে স্বচ্ছতা বাড়বে বলেই মনে করছে কমিশন।

রাজ্য পুলিশের ডিজি বৈঠকের পর জানান, আলোচনা ইতিবাচক হয়েছে এবং প্রশাসন সুষ্ঠু ভোট পরিচালনায় প্রস্তুত।


রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া তীব্র

কমিশনের এই নির্দেশ সামনে আসতেই রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে।

বিজেপি নেতৃত্বের বক্তব্য, যদি নির্বাচন কমিশনের হাতেই বাহিনীর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ না থাকে, তবে ভোট সুষ্ঠুভাবে করা সম্ভব নয়। তাদের অভিযোগ, বাহিনীকে কার্যকর দায়িত্ব না দিলে তার কোনও অর্থ থাকে না।

অন্যদিকে শাসক দলের বক্তব্য সম্পূর্ণ ভিন্ন। তাদের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় বাহিনীকে সামনে রেখে বিরোধীরা রাজনৈতিক পরিবেশ উত্তপ্ত করতে চাইছে। তারা প্রশ্ন তুলেছে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়েও।

এই পাল্টাপাল্টি মন্তব্যে ভোটের আগে রাজনৈতিক আবহ আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠছে।


মার্চে আসছে ৪৮০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী

ভোটকে সামনে রেখে মার্চ মাসে দুই দফায় মোট ৪৮০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী রাজ্যে মোতায়েন হবে।

📌 ১ মার্চ আসবে ২৪০ কোম্পানি
📌 ১০ মার্চ আসবে আরও ২৪০ কোম্পানি

মোট বাহিনীর গঠন নিম্নরূপ—

  • সিআরপিএফ – ২৩০ কোম্পানি
  • বিএসএফ – ১২০ কোম্পানি
  • সিআইএসএফ – ৩৭ কোম্পানি
  • আইটিবিপি – ৪৭ কোম্পানি
  • এসএসবি – ৪৬ কোম্পানি

নির্বাচন কমিশনের মতে, এই বিশাল বাহিনী মোতায়েনের মূল লক্ষ্য হল ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অবাধ ও নিরপেক্ষ ভোটদান পরিবেশ তৈরি করা।


কেন গুরুত্বপূর্ণ এই নির্দেশ?

বিশেষজ্ঞদের মতে, কেন্দ্রীয় বাহিনীর সক্রিয় উপস্থিতি অনেক ক্ষেত্রে ভোটারদের মধ্যে আস্থা বাড়ায়। বিশেষ করে স্পর্শকাতর এলাকায় বুথ দখল, ভয়ভীতি প্রদর্শন বা সংঘর্ষের সম্ভাবনা কমাতে বাহিনীর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।

জিপিএস ট্র্যাকিংয়ের মতো প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা যোগ হওয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা আরও বাড়তে পারে।

তবে রাজনৈতিক মতভেদ এবং অভিযোগ-প্রত্যাঘাতের কারণে পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই এখন দেখার।


সামনে কী?

ভোটের দিন যত এগিয়ে আসছে, ততই প্রশাসনিক প্রস্তুতি জোরদার হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের কড়া বার্তা স্পষ্ট—বাহিনী শুধু উপস্থিত থাকবে না, প্রয়োজনে সক্রিয়ভাবে দায়িত্ব পালন করবে।

রাজনৈতিক মহলে এই নির্দেশ কতটা প্রভাব ফেলবে এবং মাঠে তার বাস্তব প্রয়োগ কেমন হবে, সেটাই এখন মূল প্রশ্ন।

Soumya Kundu | Jan-Vani Digital Desk

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

🟢 Join WhatsApp